মিথ্যাচারের অভিযোগ ও ওলামা সম্মেলনে সিদ্ধান্তের ঘোষণা
টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে সংঘর্ষের পর মাওলানা সাদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে কাকরাইল মসজিদের সামনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মামুনুল হক জানান, ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে আসন্ন ওলামা সম্মেলনে। সংঘর্ষের ঘটনাকে তিনি “দুপক্ষের সংঘর্ষ নয়, বরং ঘুমন্ত সাথী ভাইদের ওপর একতরফা হামলা” বলে অভিহিত করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে হামলার প্রমাণ
মামুনুল হক দাবি করেন, “ওসামা বিন ওয়াসিফ-এর নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে। এর সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের হাতে রয়েছে।” তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম সংঘর্ষ বন্ধের চেষ্টা করছিলেন। তাদের সঙ্গেও মিথ্যাচার করেছে সাদপন্থীরা।
হুঁশিয়ারি ও অভিযোগ
তিনি বলেন, “হামলাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না।” পাশাপাশি, মিডিয়ার মিথ্যা সংবাদ প্রচারের বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি দেন মামুনুল হক।
সংঘর্ষের পটভূমি ও হতাহতের ঘটনা
মঙ্গলবার রাত ৩টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে সাদপন্থি মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে প্রবেশের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। জুবায়েরপন্থী মুসল্লিরা ফটকে পাহারায় থাকায় তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ময়দানে প্রবেশ করেন সাদপন্থীরা।
সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন তিনজন:
- বাচ্চু মিয়া (৭০), বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া।
- তাইজুল ইসলাম (৬৫), বাড়ি বগুড়া জেলা।
- বেলাল (৬০), বাড়ি ঢাকার দক্ষিণ খান।
আহতদের টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরবর্তী পরিকল্পনা
২০ ডিসেম্বর থেকে পাঁচ দিনের জোড় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ওলামা সম্মেলনের পর নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
Post a Comment